চট্টগ্রাম, ডিসেম্বর ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অশোভন কথার ‘শিক্ষা’ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া বন্ধুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে জাহেদ মাহমুদ নামে এক তরুণ। তিনি দাবি করেছেন, ‘দুর্ঘটনাবশত’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনের (২১) বন্ধু জাহেদ মাহমুদ (২০) রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে খুনের ঘটনার বর্ণনা দেন। জাহেদ নগরীর বাগমনিরাম এলাকার সেলিম মাহমুদের ছেলে। তিনি এসএসসি’র পর আর পড়াশোনা করেননি। গত ১৯ ডিসেম্বর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ সংলগ্ন মাঠের একপাশ থেকে পুলিশ কফিল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে। তার হাতের রগ কাটা এবং গলায় ক্ষতচিহ্ন ছিলো। মহানগর পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ঘাড়ে আঘাত ও গলা টিপে হত্যার পর এটাকে ছিনতাইকারীদের কাজ বলে চালানোর জন্য কফিলের হাতের রগ কেটে দেয় জাহেদ। জাহেদ সাংবাদিকদের বলেন, কফিল তার শরীরের গঠন নিয়ে অশোভন কথা বলায় তার রাগ চরমে উঠে। “তখন কফিলের গায়ের ওপর উঠে ঘাড়ে চাপ দিই। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। মুখ দিয়ে হাওয়া বা অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি,” বলেন জাহেদ। ঘটনার জন্য অনুতপ্ত এই তরুণ বলেন, এখন যে শাস্তি হবে, তা মাথা পেতে নিতে তিনি রাজি। পুলিশ জানায়, নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে টানা অনুসন্ধান চালিয়ে খুনের সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়। শনিবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি মুখ খোলেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের দুই পরিদর্শক সদীপ কুমার দাশ ও মোহাম্মদ মোহসিসন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জাহেদ খুনের পর কফিলের সঙ্গে থাকা ল্যাপটপসহ ব্যাগটি নিয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯ হাজার টাকাও ছিল। পুলিশ ল্যাপটপ এবং খোয়া যাওয়া ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাকি টাকায় কেনা একটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করেছে। খুনের পর জানাজায় গত ১৮ ডিসেম্বর খুন হয় কফিল, পরদিন তার লাশ উদ্ধাার করে পুলিশ। ওইদিন সন্ধ্যায় কফিলের আনোয়ারার বাড়িতে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন জাহেদ। পুলিশ হেফাজতে জাহেদ বলেন, “লাশ উদ্ধারের পর আনোয়ারায় কফিলের বাড়িতে গিয়ে তার জানাজায় অংশ নিই। উনার পরিবারের সদস্যরা রাতে আমাকে জোর করে ভাত খাওয়ায়। খেতে পারছিলাম না, কান্না আসছিলো।” এ ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে থাকার কথা জানিয়ে জাহেদ বলেন, “রাতে ভালো করে ঘুমও হতো না।” composed by Md. Tamim |

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন