শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২

Indian defence minister's office bugged


Authorities have detected alleged bugging of the office room of Defence Minister AK Antony and the Intelligence Bureau has been asked to probe the matter.
Sources in the ministry told PTI yesterday that the development came to notice on February 16 following which Defence Secretary Shashikant Sharma took up the matter with IB for a probe.
The matter was brought to notice by two Army personnel who were manning the telephone lines in the ministry.
After this was brought to notice, ministry officials refused to get their phone lines checked by the Army personnel, they said.
Last year, a similar incident was reported from the office of Finance Minister Pranab Mukherjee when snooping devices allegedly were found from there.
An inquiry was ordered by the Finance Ministry after adhesive-like substances were recovered from his office, raising suspicion that they might have been used to implant electronic listening devices.

Read more »

March 12 rally at Nayapaltan BNP leaders in talks about post-rally agitation


The main opposition BNP will hold the March 12 grand rally at Nayapaltan, in front of the party central office, said BNP Vice-Chairman Sadeque Hossain Khoka yesterday.
It is because the authorities concerned did not allow Manik Mia Avenue or Paltan ground for the gathering, he added.
The party has also moved to place a formal proposal for restoring the caretaker government system in parliament ahead of the rally.
Party insiders said some of the senior party leaders are now working on the draft proposal for reviving the caretaker government provision while others are busy with the rally preparation.
They said the decision of returning to the House will be finalised within a couple of days since the current session of the parliament will end on March 8.
On Thursday, the party high command asked all the opposition lawmakers to be in the capital by tomorrow [Sunday].
“We will comply with the instruction,” said Mazibar Rahman Sarwar, a lawmaker from Barisal-5 constituency.
Meanwhile, BNP leaders have been reserving the city hotels and community centres for the accommodation of those who will join the rally from outside the capital. However, problems are being created centring the bookings, alleged Khoka at a press briefing in the party headquarters.
He hoped that Dhaka will be flooded with people on the rally day.
The party's senior- and mid-level leaders, lawmakers, and central committee leaders are holding meetings across the country to make the March 12 rally a success. BNP Chairperson Khaleda Zia is overseeing the programme preparation, said the insiders.
On January 9, Khaleda called for the rally from a huge rally in Chittagong to mount pressure on the government for reinstating the caretaker government system.

Read more »

ফেনসিডিল পাচারে ডিবি পুলিশ!


ফেনসিডিল পাচারে ডিবি পুলিশ!


রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তিন সদস্যসহ চারজনকে ফেনসিডিলসহ আটক করেছে টাস্কফোর্স। আটককৃতরা হলো কনস্টেবল সিদ্দিকুল ইসলাম, আবদুস সামাদ, লাল মাহমুদ এবং অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাদক অধিদফতর ও র‌্যাব-৫ এর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর রাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। তাদের কাছে তথ্য ছিল, কয়েকজন পুলিশ সদস্য মাদকের একটি বড় চালান স্থানান্তর করছে। অভিযানকালে ৯৫৪ বোতল ফেনসিডিলসহ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তিন কনস্টেবল ও এক অটোরিকশা চালককে আটক করা হয়। এ সময় আটককৃতরা মাদক উদ্ধার অভিযানে থাকার কথা বললেও টাস্কফোর্সের কাছে সংশ্লিষ্ট থানার আদেশনামা ও জব্দ তালিকা দেখাতে পারেনি। এমনকি তাদের কাছে ডিবি পুলিশের ইউনিফর্মও ছিল না বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক ভূপতি কুমার বর্মা। তিনি বলেন, তাদের পরিচয় পুলিশ কিনা এটা বড় কথা নয়, মাদক পাচারকারী হিসেবেই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর কবীর বলেন, আটককৃতদের পক্ষ থেকে যে আদেশনামা উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে ফ্লুইড মারা ও ভুলে ভরা। ওই ভুয়া আদেশনামায় ইউনিফর্ম নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের কাছে কোনো ইউনিফর্ম পাওয়া যায়নি। মাদক উদ্ধারে নামলে তাদের কাছে হ্যান্ডকাফ থাকার কথা, কিন্তু সেটাও নেই। সর্বোপরি আটককৃতরা মাদক চোরাচালান করছে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়েছে।

Read more »

রাজনীতি : ১২ মার্চ ঢাকা চলো মহাসমাবেশ নয়াপল্টনে এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঢাকায় লোক জড়ো করবে বিএনপি


রাজনীতি : ১২ মার্চ ঢাকা চলো মহাসমাবেশ নয়াপল্টনে
এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঢাকায় লোক জড়ো করবে বিএনপি



১২ মার্চ চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচির এক সপ্তাহ আগে থেকেই রাজধানীতে লোক জড়ো করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ওইদিন নয়াপল্টনের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে গণবিস্ফোরণ ঘটাতে চায় তারা। মহানগরের কমিউনিটি সেন্টার, হোটেলসহ আত্দীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে বাইরে থেকে আসা নেতা-কর্মীদের রাখার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা জানিয়েছেন, সেদিন ঢাকায় অন্তত ২০ লাখ লোক জড়ো করার টার্গেট তাদের। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকেই বেশি লোক আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দূরাঞ্চল থেকে ব্যানার নিয়ে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসতে মানা করা হয়েছে। যেখানে বাধা সেখানেই অবস্থান এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখে ৮টি স্থানে অভ্যর্থনা কেন্দ্র খোলা হবে। এদিকে খোকা অভিযোগ করেছেন, ঢাকাসহ দেশের মহল্লা-পাড়া-ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণা, তোরণ নির্মাণ ও মাইকিংয়ের অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে কমিউনিটি সেন্টার ও হোটেলগুলো নেতা-কর্মীদের থাকার জন্য ভাড়া দিতে চাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রের ৪৫টি সমন্বয় কমিটি ছাড়াও ৮টি উপকমিটি মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। দলের বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আগামী ৭ মার্চ দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তিনি। সেখানে ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার বক্তব্যের খসড়া ছাড়াও নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে ওই বৈঠকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ মার্চ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বিশেষ করে পল্টন, প্রেসক্লাব, সচিবালয়ের আশপাশ, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা মোড়, মৎস্যভবন, কাকরাইল মোড়, শাহবাগ মোড়, বাংলা মোটর মোড়, ফার্মগেট এলাকা থাকবে জনতার দখলে। বাধা এলে সেখানেই অবস্থানের অলিখিত ঘোষণা থাকবে। ঢাকার চারপাশের জেলা থেকে আগত নেতা-কর্মীদের জন্য প্রবেশমুখে অভ্যর্থনা জানাতে একটি কমিটি করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, মহাসমাবেশ উপলক্ষে ১০০টি ওয়ার্ডেই প্রস্তুতি সভার কাজ চলছে। অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো মহানগর বিএনপির নেতারা এর তদারকি করবে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ থেকে বেগম জিয়া সরকারের পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বহাল করতে সরকারকে একটি সময়সীমা বেঁধে দেবেন। এ আলটিমেটাম চলাকালে দলকে আন্দোলনমুখী রাখতে 'গুচ্ছ' কর্মসূচিও ঘোষণা করবেন তিনি। এতে অবস্থান ধর্মঘট, অনশন, গণমিছিল ও ঘেরাও কর্মসূচি থাকতে পারে।    

Read more »

আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দেয়নি জাতীয় পার্টি


আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দেয়নি জাতীয় পার্টি
আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দেয়নি মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি। আগামী ১৪ মার্চ ঢাকাতে ১৪ দলের ডাকা মহাসমাবেশে জাতীয় পার্টিকেও সঙ্গে নিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে গেছে জাতীয় পার্টি। দলীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ১৪ দলের বৈঠকে জাপাকে উপস্থিত হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ টেলিফোন করেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে। জাপার দুই শীর্ষ নেতাই নানা যুক্তি দেখিয়ে তা এড়িয়ে গেছেন। তখন জাতীয় পার্টিতে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত জুটি হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়া উদ্দিন বাবলুকে ১৪ মার্চের সমাবেশে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়া উদ্দিন বাবলু এরশাদের কাছে গিয়ে বলেছেন, তাদেরকে এই মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে। নানা যুক্তিতর্কে তারা এরশাদকে বোঝাতেও চেয়েছেন যে, মহাসমাবেশে তাদের যাওয়া উচিত। কিন্তু এরশাদ তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। জাপার নেতা-কর্মীরা যখন মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরশাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, এরশাদ নিজেও সেই সিদ্ধান্তই নিতে চাইছেন, তখন আওয়ামী লীগের ঐক্যের মঞ্চ থেকে দূরে থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ।

Read more »

বাংলাদেশ ভারতসহ পাঁচ দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনী


বাংলাদেশ ভারতসহ পাঁচ দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনী


আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশে বর্তমানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী অবস্থান করছে। অন্য দেশগুলো হলো ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (প্যাসিফিক কমান্ড) দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার অ্যাডমিরাল রবার্ট উইলার্ড গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির কাছে শুনানিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিশেষ এ বাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার এ পাঁচটি দেশে অবস্থান করে সন্ত্রাসরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়াও জলদস্যুতা, মাদক পাচার ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন কাজে দেশগুলোকে সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ইউএস স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্স, এএফপি, পিটিআই ও বিবিসির। কমান্ডার উইলার্ডের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন কমান্ডার বলেছেন সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ যোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বেশ ভালো অবদান রাখছে। এতে তাদের সক্ষমতাও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজ দেশের মানুষের পাশে থাকছে। কংগ্রেস কমিটি সেনা কমান্ডারের কাছে লস্কর-ই-তৈয়বা সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে উইলার্ড কমিটিকে জানান, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এ অঞ্চলের জন্য খুবই বড় হুমকি। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলাসহ ভারতে আরও কয়েকটি হামলার জন্য লস্কর-ই-তৈয়বাকে দায়ী করা হয়। আফগানিস্তানেও বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছে তারা। এ ছাড়া তাদের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার অন্যান্য অনেক স্থানও। এই জঙ্গিগোষ্ঠী কেবল নিজেরাই সংঘবদ্ধ নয়, এদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বেশ ভালো। আল-কায়েদা এবং অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের মোকাবিলায় মার্কিন সেনারা দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে। এই সহযোগিতা বিশেষত সামুদ্রিক এলাকায়। তবে আমরা ওই সব দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায়ও সাহায্য করব। মার্কিন সেনা কমান্ডার কংগ্রেস কমিটির কাছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও আমেরিকায় জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রোপকূলের গুরুত্ব এবং এর কৌশলগত অবস্থানও তুলে ধরেন।

Read more »

প্রতিশ্রুতি মানছে না ভারতচতুর্মুখী পানি সংকটে পড়বে দেশ



প্রতিবেশী ভারতের একতরফা পদক্ষেপের কারণে অদূর ভবিষ্যতে চতুর্মুখী পানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত একদিকে আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক আইন মানছে না, অন্যদিকে রক্ষা করছে না বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশের বারবার তাগিদ সত্ত্বেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর প্রলম্বিত করছে। কাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। এর বাইরে আন্তঃনদী সংযোগ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এ সবের ফলে বাংলাদেশের উজানে ভারত থেকে আসা আন্তর্জাতিক নদীগুলোর গতিপথে পরিবর্তন ঘটবে। বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের সার্বিক পরিবেশ ও কৃষির উপর। পরিবর্তন ঘটবে জলবায়ুর। তখন বাংলাদেশ বহুমুখী পানি সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন দেশের পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা করবে দুই দেশ। ফলে ভারত চাইলে একতরফাভাবে যৌথ নদীর ওপর কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আবার যে কোনো ছোট প্রকল্পের আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতির বাইরে টিপাইমুখে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই চুক্তি করেছে ভারত। নেপাল ও ভুটানের সপ্তকোষি ও সাংকোশী অববাহিকায় বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি করে ফেলেছে তিনটি দেশ। আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না সহসাই। গঙ্গা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এমন সময়ে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট থেকে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারতের ১৬টি নদী নিজেদের মধ্যে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পের আওতায় নেপালের কোশি ও মহাকালী নদীর উৎসস্থলের কাছে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আটকে দেওয়া হবে। সেখান থেকে পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে গঙ্গায় এসে পড়বে। গঙ্গার পানি আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের কাছ দিয়ে দক্ষিণ ভারতের দিকে যাবে। দক্ষিণ ভারতের শুকনো অঞ্চলে পানি নেওয়া হবে। ফলে বন্ধ হয়ে যাবে স্বাভাবিক প্রবাহের আওতায় বাংলাদেশে পানির প্রবেশ।


পররাষ্ট্র ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনিপুরে বরাক ও টুভাই নদীর মিলনস্থলে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। মনিপুর রাজ্যের চোরাচাঁদপুর জেলার টিপাইমুখে ১৬৩ মিটার উঁচু ড্যামটি ৫ হাজার ১৬৩ দশমিক ৮৩ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মূলত বরাক উপত্যকায় পানি ধারণ করে ২ হাজার ৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ। পরে এই ড্যামের মাধ্যমে সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এটি নির্মাণ হলে মহা বিপর্যয়ে পড়বে বাংলাদেশের আটটি জেলা। পাঁচ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাও বিপন্ন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব ড. আকবর আলি খান জানান, বাংলাদেশের উজান থেকে আসা পানির মোট ৭-৮ ভাগ আসে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় বরাক নদী থেকে। মৎস্য সম্পদ ও চাষাবাদের জন্য বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষ বরাক নদীর পানি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনার প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার ২৭৫ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশে কতখানি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তা সমীক্ষা করে বের করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আকবর আলি খান। তিনি বলেন, কতগুলো খারাপ প্রভাব এখনই বাংলাদেশে পড়বে এবং কতগুলো প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বা স্বল্পমেয়াদে পড়বে তার কোনো সমীক্ষা নেই। তবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এর ভাটিতে যে পানি আসে সে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এর ফলে ভাটি অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হবে। দ্বিতীয়ত, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাটির নদীগুলোর ভাঙন বেড়ে যাবে। ফলে ভাটিতে পলিমাটি গিয়ে শাখা নদী ও উপনদীগুলোকে ভরাট করে ফেলবে। মাছ তার আবাস হারাবে এবং নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের নয়াদিলি্ল সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বার্তা দিয়েছেন তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে সময় লাগবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আপত্তি বাংলাদেশকে দেওয়া পানির হিস্যা নিয়ে। বাংলাদেশকে সমবণ্টন হিসেবে অর্ধেক পানি দেওয়ার বিরোধী তিনি। সবমিলিয়ে সবপক্ষের রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তিস্তা চুক্তি সম্ভব নয়।


এদিকে, সোমবার ভারতের সুপ্রিমকোর্ট আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আদেশ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটিও গঠন করেছে। জানা যায়, ২০০২ সালে দেশে খরার কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি আন্তঃনদী-সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। সে সময় গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে প্রকল্পটি দুই ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়। উপদ্বীপ অঞ্চলের অংশের আওতায় মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর মাঝে ১৬টি সংযোগের মাধ্যমে 'দক্ষিণাঞ্চলীয় পানি গ্রিড' গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। এ পরিকল্পনার আওতায় মহানন্দা ও গোদাবরীর বাড়তি পানি পেন্নার, কৃষা, ভাগাই ও কাবেরীতে প্রবাহিত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত কেরালা ও কর্ণাটকের নদীগুলোর ধারা পূর্ব দিকে পরিবর্তনের পাশাপাশি পশ্চিম উপকূলসংলগ্ন ছোট নদীগুলো এবং মুম্বাইয়ের উত্তর ও তাপির দক্ষিণে প্রবাহিত নদীগুলোর সঙ্গে যমুনার দক্ষিণের প্রবাহিত নদীর ধারার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। অপর অংশের প্রকল্পে জলাধার নির্মাণের লক্ষ্যে ভারত, নেপাল ও ভুটানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পাশে বেশ কিছু বাঁধ নির্মাণ করা হবে। গঙ্গার পূর্ব দিকে প্রবাহিত বাড়তি পানির গতিপথ পশ্চিমে সরিয়ে দিতে খাল নির্মিত হবে। ব্রহ্মপুত্র ও এর সঙ্গে সংযুক্ত অন্য নদীর সঙ্গে গঙ্গা এবং গঙ্গার সঙ্গে মহানন্দার সংযোগ করা হবে। প্রকল্পের এ অংশ প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটারে সেচের পাশাপাশি প্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পাশাপাশি এটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা জোরদার করবে। এ প্রসঙ্গে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, আন্তঃসংযোগ নদী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের ৭০ শতাংশ পানি কমে আসবে। কারণ শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ পানির উৎস। এ নদী দিয়ে পানি আসা কমে গেলে বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশ গুরুতর বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।
 

Read more »

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১২

ক্ষমতায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক পথেই যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টাক্ষমতায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক পথেই যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে ভিন্ন পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন কাউকে ক্ষমতায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক পথেই যেতে হবে। আজ গণভবনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগে নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ব্যাপারে জড়িতদের বিচার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, কিছু বলার থাকলে তা সংসদে এসে বলুন। বিরোধী দলীয় নেতা ডিসেম্বরে কেন সরকার পতনের ডাক দিয়েছিলেন সেটা এতদিনে বোঝা গেছে। তাদের এ আলটিমেটাম আর সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ ষড়যন্ত্র বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, তারা কি করতে চেয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তারা এমন সময় এ আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যে ডিসেম্বর মাস ছিল তাদের পরাজয়ের মাস আর আমাদের বিজয়ের মাস। একাত্তরে যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছিল, সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। তাদের রক্ষার জন্য বিএনপি নেত্রী মরিয়া। তাই তিনি এমন সময় এ ধরনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সেনা সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান সরকারকে উৎখাতের একটি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।সেনাবাহিনীর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত ও সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার ও কর্মরত একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়।

Read more »

নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপটি মনমোহনের টেবিলে


বাংলাদেশি যুবক হাবিবুর রহমানকে বিবস্ত্র করে বিএসএফের বর্বর নির্যাতন। 
বিএসএফের বর্বরতানির্যাতনের ভিডিও ক্লিপটি মনমোহনের টেবিলেশর্ষের মধ্যে ভূত, তাই এদের সাজা দেওয়ার কেউ নেই : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
মুর্শিদাবাদের ১০৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ানদের নামমাত্র শাস্তি দেওয়ায় কলকাতার সুশীল সমাজে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে ওই বিএসএফ জওয়ানদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের একাধিক মানবাধিকার সংস্থা দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিল ও প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে চিঠি পাঠিয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, মানবাধিকার সংস্থা মাসুম (মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ) মুর্শিদাবাদের সীমান্ত অঞ্চলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়া নির্মম অমানবিক সেই ভিডিও ফুটেজটিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ই-মেইল করে পাঠায় এদিন।
এ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্য সচিব সমর ঘোষসহ স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছেও ওই সংগঠনটি অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে ই-মেইল পাঠায়। সেখানেও ভিডিও ফুটেজটি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফে পাঠানো এসব চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দেশের একজন সাধারণ নাগরিক এ ধরনের অপরাধ করলে যদি পুলিশ গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে, সে ক্ষেত্রে একজন মানুষকে এভাবে নগ্ন করে পেটানোর পরও কেন বিএসএফ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়নি? শুধু তা-ই নয়, সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, একজন বাংলাদেশি পাচারকারীকে ধরে পেটানোর পর কেন তাকে পুলিশে দেওয়া হলো না? এখানেও বিএসএফ আইন লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের অ্যাক্টিং চেয়ারপারসন বিচারপতি নারায়ণ শীল বলেন, 'এখনো লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ আমার দপ্তরে জমা পড়েনি। বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আওতাভুক্ত। আমাদের কাছে এলে সেটা সেখানে পাঠিয়ে দেব।'
ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের সেক্রেটারি কিরিটি রায় জানিয়েছেন, 'এই ঘটনায় শুধু প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির কাছেই নয়, আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সেলেও চিঠি পাঠিয়েছি। সেখানেও ভিডিও ক্লিপ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ একের পর এক নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। এটা শুধু মানবাধিকারের লঙ্ঘনই নয়; বরং ভারতীয় সংবিধান পরিপন্থী। কিন্তু দুঃজনক হলেও সত্য, বিএসএফের বিরুদ্ধে কোনো আইন প্রয়োগ করা হয় না। এ কারণে তারা যা ইচ্ছা করে পার পেয়ে যাচ্ছে।'
কলকাতার সুশীল সামাজেও এই বর্বরতার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর ভাষ্য, জঘন্য একটি কাজ করেছে বিএসএফ। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। নইলে এ ধরনের অপরাধ আরো বাড়বে। তিনি এর জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে এসে এসব ঘটনা প্রচার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সভ্য সমাজে এ ধরনের আক্রমণ মেনে নেওয়া অসম্ভব।
বিএসএফের এই ঘটনা আসলে টাকাপয়সার লেনদেনের কারণে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আরেক প্রখ্যাত লেখক ও কবি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর ভাষায়, 'কতিপয় বিএসএফ টাকা না পেলেই এই কাজ করে। সীমান্তে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়, এর সিংহভাগই বিএসএফের জানা। কিন্তু আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে এমন হচ্ছে। আইন কে প্রয়োগ করবে বলুন? আসলে শর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। যাঁরা আইন প্রয়োগ করবেন, তাঁরাই তো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।'
মুর্শিদাবাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান হোসেন বলেন, এমন অত্যচারের ঘটনায় তাঁরা রীতিমতো লজ্জিত। এতে দেশের মানুষের সম্পর্কে প্রতিবেশীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছায়। এ ঘটনা তিনি দেশের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কাছে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রায় সব বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা মুর্শিদাবাদের বিএসএফের এই অত্যাচারের খবর প্রকাশ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমেরিকার গুয়ান্তানামো বে কারাগারের লোমহর্ষক নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে বলে কোনো কোনো দৈনিক পত্রিকা মত প্রকাশ করেছে।
কলকাতার অধিকাংশ পত্রিকার দাবি, বিএসএফ জওয়ানদের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় এভাবে বাংলাদেশি পাচারকারীদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। একইভাবে ৯ ডিসেম্বর ধৃত পাচারকারী হাবিবুর রহমানের কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছিল। দাবিমতো ওই টাকা না দেওয়ায় এই নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে বিএসএফ।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ভিডিও ফুটেজ তোলা নিয়ে। সীমান্তে কতর্ব্য পালনের সময় কোনো বিএসএফ সদস্যের হাতে মোবাইল থাকা নিষিদ্ধ। কিন্তু সেদিনের এই দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছে মোবাইল ফোনে। শুধু তা-ই নয়, গরু পাচারের অভিযোগে ধৃত ও নির্যাতিত ওই বাংলাদেশি এখন কোথায়? বিএসএফ ধরলে তাকে অবশ্যই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। তাহলে সেদিন কেন বিএসএফ অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়ার পরও সেলিম খানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়নি? এখানেও ওই বিএসএফ সদস্যরা দেশের আইন ভঙ্গ করেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

Read more »

অভ্যুত্থান চেষ্টা নস্যাৎ


গতকাল আর্মি অফিসার্স ক্লাবে সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন। 
অভ্যুত্থান চেষ্টা নস্যাৎ
সরকার উৎখাতের চক্রান্ত রুখে দিল সেনাবাহিনী
* দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার * একজন পলাতক 
* প্রবাসীর ইন্ধন

সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা বা অভ্যুত্থানের অপচেষ্টা সম্পর্কিত কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনই শতভাগ সঠিক প্রমাণিত হলো সেনা সদরের বক্তব্যে। সেনা সদর দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, 'অবসরপ্রাপ্ত এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত কতিপয় ধর্মান্ধ কর্মকর্তা কর্তৃক অন্যদের ধর্মান্ধতাকে পুঁজি করে দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করার একটি বিফল প্রয়াস চালানো হয়। এই অপপ্রয়াসটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিহত করা হয়েছে।'
একই সঙ্গে আরো জানানো হয়েছে, এই অপপ্রয়াসের পেছনে ইন্ধন রয়েছে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিরও। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ইশরাক আহমেদ তাঁদের অন্যতম। ইশরাক সম্ভবত হংকংপ্রবাসী। তাঁর বাবার নাম এম রাকিব। বাংলাদেশে নওগাঁ জেলার সদর থানার বারশাইল ইউনিয়নের বালুভাড়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। ওই ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল এহসান ইউসুফ ছাড়াও আরেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জাকিরকে গত মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পলাতক মেজর জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছে সেনা সদর।
উল্লেখ্য, গতকাল কালের কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় 'সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা!' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ প্রকাশের পর সেনা সদর দপ্তর গতকাল বিকেল ৩টায় ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লে. জেনারেল মো. মইনুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা এবং আইএসপিআরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পিএস (পার্সোনাল সার্ভিস) পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক সেনা সদরের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল লে. কর্নেল মুহাম্মদ সাজ্জাদ সিদ্দিক।
সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই এ বিষয়ে একটি সময়োপযোগী এবং সঠিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য কালের কণ্ঠের প্রতিবেদককে উপস্থিত অনেকেই অভিনন্দন জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যা বলা হয়
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সম্প্রতি কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের ইন্ধনে অবসরপ্রাপ্ত এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত কিছু ধর্মান্ধ কর্মকর্তা অন্যদের ধর্মান্ধতাকে পুঁজি করে দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করার একটি বিফল প্রয়াস চালান। এই অপপ্রয়াসটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঐকান্তিক চেষ্টায় প্রতিহত করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজন লে. কর্নেল পদবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা [পরে নাম জানানো হয়, তিনি লে. কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফ, যাঁর নাম ও পরিচয় কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল] গত ১৩ ডিসেম্বর একজন কর্মরত মেজর পদবির কর্মকর্তাকে তাঁর ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগদানের প্ররোচনা দিলে ওই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক বিষয়টি তাঁর চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে অবগত করলে বর্ণিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনী আইনের ২(১)(ডি)(র) এবং ৭৩ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসের অন্য পরিকল্পনাকারী মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক গত ২২ ডিসেম্বর অন্য এক কর্মরত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে তাঁকেও রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড তথা সেনাবাহিনীকে অপব্যবহার করার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে প্ররোচনা দেন। ওই কর্মকর্তা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে সদ্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মেজর জিয়ার ছুটি ও বদলি আদেশ বাতিল করে তাঁকে সত্বর ঢাকার লগ এরিয়া সদর দপ্তরে যোগ দিতে বলা হয়। বিষয়টি টেলিফোনে গত ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে জানানো হলেও তিনি পলাতক থাকেন। পলাতক অবস্থায় মেজর জিয়া সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাবভারসিভ (নাশকতামূলক) কার্যক্রম চালানোর পাঁয়তারা করেন এবং এখনো করছেন। এ ছাড়াও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সুনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য একজন মেজর পদবির কর্মকর্তা [পরে জানানো হয়, তাঁর নাম মেজর (অব.) জাকির] একজন চাকরিরত কর্মকর্তাকে সরকারের প্রতি আনুগত্য পরিত্যাগ করার প্ররোচনা দেন। এ অভিযোগে গত ৩১ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট সেনা আইনের ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের আংশিক তথ্যাদি ফাঁস হয়ে যাওয়া ও কিছু ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ডিসেম্বর ১০টা ৫২ মিনিটে পলাতক মেজর জিয়া তাঁকে তথাকথিত গ্রেপ্তার ও নির্যাতনসংক্রান্ত কল্পনাপ্রসূত ও অবিশ্বাস্য গল্প বর্ণনা করে একটি উসকানিমূলক ই-মেইল তাঁর পরিচিতদের পাঠান, যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকে জনৈক আবু সাঈদ আপলোড করেন। পরে মেজর জিয়া 'Mid-level Officers of Bangladesh Army are bringing Down changes soon' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন বছরের উপহার- মধ্যম সারির অফিসাররা অচিরেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন' শিরোনামে কাল্পনিক ও অত্যন্ত বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে দুটি ই-মেইল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। গত ৩ জানুয়ারি একটি পত্রিকা 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে পলাতক মেজর জিয়ার ওই ইন্টারনেট বার্তাটি প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মান্ধ 'হিযবুত তাহ্রীর' পলাতক মেজর জিয়ার ইন্টারনেট বার্তাটিকে ভিত্তি করে দেশব্যাপী উসকানিমূলক লিফলেট ছড়ায়। এর এক দিন পর গত ৯ জানুয়ারি দেশের একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলও উপরোক্ত মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও প্রচারণামূলক সংবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীতে গুমের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করে, যা সেনাবাহিনী তথা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত উসকানিমূলক বিতর্ক সৃষ্টি করে। এই মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধন্যবাদ জানাচ্ছে সেই সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে, যারা বিভ্রান্তিমূলক ও উসকানিমূলক তথ্য পেয়েও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের খবর পরিবেশন না করে পেশাদারি ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত অবসরপ্রাপ্ত দুজন কর্মকর্তা ও অন্য চাকরিরত কর্মকর্তাদের দেওয়া বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ঘাড়ে ভর করে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের ঘৃণ্য চক্রান্তের সঙ্গে সেনাবাহিনীতে চাকরিরত কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য ইতিমধ্যেই উদ্ঘাটিত হয়েছে। কিছু বিশৃঙ্খল ও পথভ্রষ্ট সামরিক কর্মকর্তা মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে পলাতক মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে ওই ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চক্রান্তে সক্রিয়ভাবে লিপ্ত থাকেন। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য গত ২৮ ডিসেম্বর একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং তার কার্যক্রম চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৯ ও ১০ জানুয়ারি পলাতক মেজর জিয়া তাঁর কল্পিত দুটি অপারেশন আদেশ/নির্দেশের কপি ই-মেইলের মাধ্যমে চাকরিরত বিভিন্ন অফিসারের কাছে পাঠান। এ ছাড়া ১০ জানুয়ারি মেজর জিয়া বিভিন্ন ফরমেশন ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত/অধ্যয়নরত সমমনা বা তাঁদের দলভুক্ত কয়েকজন অফিসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তথাকথিত সেনা অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বারবার উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। একই রাতে পলাতক মেজর জিয়া বর্তমানে বিদেশে (সম্ভবত হংকং) অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ইশরাক আহমেদের সঙ্গে কয়েকবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনে তাঁরা অভ্যুত্থানের অগ্রগতি ও তা সম্পাদনপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পলাতক মেজর জিয়া তাঁকে বিদেশে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়টি প্রচার করার জন্য বলেন। এ সময় ইশরাক পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনা অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন শেষ হলে ১০ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার সময় টেলিফোন করতে বলেন, যাতে তিনি কম সময়ের মধ্যে বিমানযোগে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেন। ধারণা করা যায়, বিশৃঙ্খলা-পরবর্তী সুবিধা প্রাপ্তির জন্যই ইশরাকের বাংলাদেশে আসার এই পরিকল্পনা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সম্পর্কে সেনা সদস্যদের মনোভাব সম্পর্কে বলা হয়, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি গুণগতমানে সমৃদ্ধ বাহিনী হিসেবে সংগঠিত হওয়ার প্রয়াসে লিপ্ত; তখনই অতীতের গণতন্ত্র ধ্বংসের বিভিন্ন অপশক্তি দেশপ্রেমিক একটি রাষ্ট্রীয় শক্তি সেনাবাহিনীর ওপর সওয়ার হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাঁরা নিকট ও দূর অতীতের ন্যায় এবারও ধর্মান্ধের অনুভূতি, অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করেছে। এসব ঘৃণ্য চক্রান্তকারীদের দোসর হয়েছে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে হঠাৎ অতিমাত্রায় কট্টর এবং পারিবারিক বন্ধন, চাকরি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিরা। অপপ্রচার চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে স্বার্থান্বেষী সংবাদপত্র, নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই জন্ম নিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর' কাঁধে ভর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করেছে কিংবা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওইসব ঘটনার বদনামের দায়ভার বহন করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাগতভাবে দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সেনা সদস্যদের বক্তব্য এই যে, 'আমরা আর এ ধরনের দায়ভার আমাদের সংগঠনের কাঁধে নিতে চাই না।' দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার্থে প্রতিটি সেনা সদস্য আত্মত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত। তবে সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের ওপর ভর করে কোনো দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করুক- তা কারোরই কাম্য নয়।
এ ছাড়া পলাতক মেজর জিয়াকে আইনের নিরাপত্তা ও সঠিক বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার স্বার্থে অনতিবিলম্বে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। মেজর জিয়ার বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর পর্ব : মেজর জিয়া তাঁদের দলভুক্ত কতজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলাপ করেছিলেন এবং কী ধরনের পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনই সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। তবে নাম্বার ইজ ভেরি লিমিটেড। এরা মধ্যম সারির কর্মকর্তা।' অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, ১৪ থেকে ১৬ জন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন।
পত্রিকায় কুমিল্লার জিওসি মেজর জেনারেল কামরুজ্জামানের কথা বলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাক বলেন, 'তাঁকে ঢাকার লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই রয়েছেন।' তাঁকে কি গৃহবন্দি করা হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর আইনে গৃহবন্দি বলে কোনো টার্ম নেই।
বিদেশি কোনো শক্তি এই অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত কি না- এ প্রশ্নে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, তদন্ত শেষ না হলে এটা বলা যাচ্ছে না।
তদেন্ত অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তরা কী ধরনের শাস্তি পাবেন তা জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, সেনা আইনের ৩১ ধারায় এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার গভীরতার ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হবে।
এই অপচেষ্টার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না- এ প্রশ্নে মাসুদ পারভেজ বলেন, 'কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা আমরা বলিনি। বিষয়টি আপনাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ওপর ছেড়ে দিলাম।'

Read more »