শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১১

বলিউডের অতিমানব হৃত্ত্বিক


বলিউডের অতিমানব হৃত্ত্বিক

‘বলিউডে খানদের রাজত্ব আরো অনেকদিন থাকছে- এটা আমি মনে করি না। খানেরা অনেকদিন ধরেই তাদের রাজত্ব টিকিয়ে রেখেছে এটা সত্যি, তবে তাদেরকে টক্কর দেয়ার মতো তারকা আমরা পেয়ে গেছি। এককভাবেই একনম্বর নায়কের আসনটা খুব শিগগিরই দখল করে নেবেন তিনি। বলিউডে হৃত্ত্বিক-রাজ শুরু হতে খুব বেশি দেরি নেই।’ বলিউডি অভিনেতা হৃত্ত্বিক রোশান সম্পর্কে এই উক্তিটি টিভি সঞ্চালক এবং ভারতের শোবিজ গুরু তরুণ আদর্শের।  
তরুণ যে খুব একটা ভুল বলেননি, তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ‘জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা’ ছবির আশাতীত সাফল্য। ছবিতে ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকা, ফারহান আখতার, অভয় দেওলদের মতো শক্তিমান অভিনেতাদের ছাপিয়ে হৃত্ত্বিক রোশানের জাদু জয় করে নিয়েছে পুরো বিশ্বকেই। সে জাদু এতোটাই মোহনীয় যে, গত একদশক ধরে প্রচণ্ড সফল ‘হ্যারি পটার’ ছবিকে রীতিমতো সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছে জয়া আখতার পরিচালিত এই ছবিটি। ভারতে ‘হ্যারি পটার: দ্যা ডেথলি হলোজ’-এর প্রথম সপ্তাহের আয় ছিলো দেড় কোটি ডলার; সেখানে ‘জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা’র আয় আড়াই কোটি ডলারেরও বেশি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এমনকি নিউজিল্যান্ডের টপচার্টেরও অনেকটা একই অবস্থা। শুরুতেই ছবির এরকম সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এর সিকুয়েল নির্মানের পরিকল্পনাও করছেন নির্মাতারা। এখন যদি বলা হয় পুরো বিশ্বই ভাসছে হৃত্ত্বিক উন্মাদনায়, তবে সেটা নিশ্চয়ই তিলকে তাল করা হবে না!


সেই ২০০০ সাল থেকে আজকের ২০১১- এগারো বছরের পরিক্রমায় একজন অভিনেতা হিসেবে হৃত্ত্বিক দেখেছেন অনেক কিছুই। সাফল্যেও শিখরে যেমন চড়েছেন, ব্যর্থতার স্বাদও পেয়েছন তেমনি। প্রথম ছবির পর হৃত্ত্বিকের টানা ৩টি ছবি যখন বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিলো, বলিউড বোদ্ধাদের অনেকেই তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আবারো ফিরে এলেন ২০০১ এ করণ জোহরের ছবি ‘কাভি খুশি কাভি গম’- এর মাধ্যমে। কারিনার সঙ্গে করা তার আইটেম গান ‘ইউ আর মাই সোনিয়া’র জনপ্রিয়তা সেসময়ের সব রেকর্ডকে ভেঙে দেয়। তারপর আবারো ৫টি ফ্লপ ছবির বিরতি ছিলো ঠিকই, কিন্তু হৃত্ত্বিক তার স্বমহিমায় ফিরে আসেন ২০০৩ এ নিজেদের হোম প্রডাকশনের ‘কোয়ি মিল গায়া’র মাধ্যমে। ছবিটিতে হৃত্ত্বিকের সহজ-সরল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণ রোহিত মেহরার চরিত্র আবাল বৃদ্ধ বনিতার হৃদয় জয় করে নেয়। বিশেষ করে শিশুরা এ ছবির ভিনগ্রহের প্রাণী জাদু এবং তার বন্ধু রোহিতের ভক্ত বনে যায় রাতারাতি। সমালাচকরাও প্রাণ খুলে এ ছবিতে হৃত্ত্বিকের অভিনয়ের প্রশংসা করেন। ফলাফল- বক্স অফিসের রেকর্ড ভাঙা সাফল্য এবং হৃত্ত্বিকের সবগুলো পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এককভাবে জয় করে নেওয়া।

এরপর দু বছরের বিরতি। এরমধ্যে ২০০৪ সালে হৃত্ত্বিকের একমাত্র ছবি ‘লক্ষ্য’ মুক্তি পেলেও তা বক্স অফিসে খুব একটা সফলতা পায়নি। যদিও ফারহান আখতার পরিচালিত এ ছবিতে হৃত্ত্বিকের অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিলো বেশ। শেষমেষ নিরবতার খোলস ছেড়ে তিনি আবারো বেরিয়ে আসেন ২০০৬ এ মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘কৃশ’-এর মাধ্যমে। ছবিতে হৃত্ত্বিক এলেন অতিমানবের অবতারে। ভারতবাসী তাদের প্রথম সুপার হিরো কৃশকে এতোটাই পছন্দ করলো যে এর সিক্যুয়েল ‘কৃশ ২’ও এখন মুক্তির অপেক্ষায়। ২০০৬ সালেই মুক্তি পায় হৃত্ত্বিক অভিনীত ‘ধুম ২’। থ্রিলার এই ছবিটিতে ঐশ্বরিয়া আর তার গ্ল্যামারাস জুটির নতুন ধরণের রসায়ন দারুণ পছন্দ হয় তরুণদের। ফলাফল এটির গায়েও ওঠে ব্লকবাস্টার হিটের তকমা। ছবিটিতে এই জুটির একটি চু¤^ন দৃশ্য বিতর্কের ঝড়ও তোলে। বচ্চন পরিবারের নববধু ঐশ্বরিয়ার শ্বশুর শ্বাশুড়িও ব্যাপারটি নাকি খুব একটা ভালো চোখে দেখেননি। সে যাই হোক, জোড়া হিটের বদৌলতে ২০০৬ সালটি একেবারেই নিজের করে নেন হৃত্ত্বিক। ফিল্মফেয়ার থেকে আইফা অ্যাওয়ার্ডস- সবগুলো পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই ছিলো হৃত্ত্বিকের জয়জয়কার। 
ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে হৃত্ত্বিক আবারো এক অনবদ্য রসায়নের মোহজাল তৈরি করেন ২০০৮ এ। আশুতোষ গোয়াড়িকারের ঐতিহাসিক ছবি ‘যোধা আকবর’-এর মাধ্যমে আবারো তিনি প্রমাণ করেন তার অভিনয় সামর্থকে। দর্শক-সমালোচক উভয়ের কাছেই নন্দিত এই ছবি হৃত্ত্বিককে এনে দেয় তার ষষ্ঠ ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার। শুধু তাই নয়, ছবিটির সৌজন্যে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রাশিয়ার কাযান চলচ্চিত্র উৎসবের গোল্ডেন মিনবার অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেন তিনি। 

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন