skip to main |
skip to sidebar
ভালোবেসে বিয়ে করেছিল জেবা আক্তার ঝুমা, This marriage was liking jeba jhuma
ভালোবেসে বিয়ে করেছিল জেবা আক্তার ঝুমা, This marriage was liking jeba jhuma
ভালোবেসে বিয়ে করেছিল জেবা আক্তার ঝুমা (১৮)। ভালোবাসার মানুষের সাথে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবে এমন স্বপ্নে বিভোর ছিল তার মন। কিন্তু আচমকা এক ঝড়ো হাওয়ায় সবকিছু কেমন তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল। কয়েকদিন আগে স্বামী মিলন সরকার (২৪) তাকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে ঘর থেকে সেই যে পালিয়েছে, এখনো তার কোনো খোঁজ নেই। গুরুতর আহত অবস্থায় ঝুমা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ঝুমা আহত অবস্থায় এ শীতে দারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে হাসপাতালে। ৩ মাসের কন্যা মিমের জন্য তার বুকের ভেতর উথাল-পাথাল কান্না। স্বামী মিলন গাজীপুরে নিয়ে মেয়েটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। এ নিয়েই সংসারে ঝগড়াঝাটি চলছিল তাদের। ঝুমা জানায়, তিন বছর আগে মিলনের সাথে তার পরিচয় হয়। ঝুমা তখন কোর্ট-কাচারী এলাকার একটি গার্মেন্টসে সামান্য বেতনে চাকরি করত। মিলন সদরঘাট-যাত্রাবাড়ীর বাসের ড্রাইভার ছিল। ঝুমাদের বাসা ছিল শনির আখড়ায়। গার্মেন্টসের কাজ শেষ করে ফেরার পথে মিলনের সাথে পরিচয় তার। সেই থেকে প্রতিদিনই ঝুমার জন্য মিলন বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করত। কথাবার্তা হওয়ার ১৩ দিনের মাথায় মিলন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ঝুমাও রাজি হয়ে যায়। ডেমরা কোনাবাড়ির এক কাজী অফিসে কলমা পরেই বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর মিলন তাকে নিয়ে বাসাবো এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। সংসারে একটু স্বচ্ছলতা আনার জন্য ঝুমা তখনো গার্মেন্টসে চাকরিরত ছিল। গত তিন মাস আগে তাদের সংসার আলো করে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তার নাম রাখা হয় মিম। ছোট মিমকে বাসায় রেখে চাকরিতে যেতে পারছিল না ঝুমা। তাই তাদের সুবিধার জন্য বরিশালের গ্রামের বাড়ি থেকে মিলনের বড় বোন লাভলীকে আনা হয়। লাভলী ঝুমার ছোট মেয়ে মিমকে দেখাশোনা করে, ঝুমা অফিসে যায়। এভাবে চলছিল ভালোই। গত এক সপ্তাহ আগে ঝুমা রাতের বেলা চাকরি থেকে ফিরে দেখে তার মেয়ে নেই। লাভলীকে জিজ্ঞাসা করে, ‘আমার মেয়ে কোথায়?’ লাভলী উত্তরে জানায়, ‘তোমার স্বামী জানে?’গভীর রাতে মিলন বাড়ি এলে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘মিম কোথায়?’ তখন মিলন উত্তর দেয়, ‘মিমকে আর কোনোদিন পাবি না। ওকে গাজীপুরে বিক্রি করে এসেছি।’এই কথা শোনার পর থেকে ঝুমা কান্না শুরু করে। মিলনের সাথে ঝগড়া লাগে, হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। মিলন ঝুমাকে ভয় দেখায়, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকেও বিক্রি করে দেব।’ গত ১৯ তারিখ ঘুমের মধ্যে ঝুমা ‘মিম’ বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে। তখন মিলন জেগে ওঠে। মেয়ের বিষয় নিয়ে আবার তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে মিলন উত্তেজিত হয়ে চাকু দিয়ে ঝুমার পিঠে আঘাত করে। একাধিক আঘাতে রক্তাক্ত ঝুমা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও তার দূর-সম্পকীয় বোন রিতা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে ঝুমা ঢামেকের ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।ঝুমা অপরাধকণ্ঠের এ প্রতিবেদককে জানায়, ‘ভালোবেসে যাকে বিয়ে করছিলাম, সে-ই আমার মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছে। আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। এ জীবনে আমার আর কি করার আছে?’ গরিব ঝুমা এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থার কথা চিন্তা করছে না। তবে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়িতে ঘটনাটি উল্লেখ করা আছে। ঝুমা এখন কি করবে, এটা সে নিজেও জানে না। মিলন সরকার ওই ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইলটিও বন্ধ রয়েছে।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন