বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী মালিহা। ফেসবুক ব্যবহার করে বন্ধু ও প্রবাসী আত্মীয়দের খোঁজখবর রাখেন নিয়মিত। সম্প্রতি নিজের ওয়ালে ঢুকে তিনি তো হতভম্ব। প্রিয় বন্ধুরা আপত্তিকর কীসব লিঙ্ক পাঠিয়েছে তাকে! কী করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। এই 'অপরাধে' কয়েকজনকে ডিলিটও করলেন বন্ধু তালিকা থেকে। পরে অবশ্য জানতে পারলেন হ্যাকাররা এ কাজ করেছে, বন্ধুরা নয়। পরে তিনি মেসেজ পাঠিয়ে নতুন করে বন্ধু করে নিয়েছেন তাদের। সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট ফেসবুক আজ এভাবেই আক্রান্ত। এসব আপত্তিকর লিঙ্ক এখন ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করছে। শুধু বাংলাদেশের মালিহাই নন, তার মতো গোটা বিশ্বের অনেক বন্ধুই হ্যাকারদের কবলে পড়েছেন। হ্যাকাররা একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর অজান্তে তার ব্যক্তিগত তথ্য, নাম, ঠিকানা, ছবি ও ফোন নম্বর ইত্যাদি চুরি করে তা ব্যবহার করছে খারাপ উদ্দেশ্যে। ফলে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য এখন আর নিরাপদে নেই। হ্যাকাররা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে একজন ব্যবহারকারীর নাম, ছবি ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে খারাপ লিঙ্ক অন্য বন্ধুদের ওয়ালে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আসল অ্যাকাউন্টধারীর ইমেজ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি অন্যদের সঙ্গে তার সম্পর্কেরও ফাটল ধরছে। অথচ ফেসবুক ব্যবহারকারী জানতেও পারছেন না তার নাম ব্যবহার করে সাইবার ক্রাইম হচ্ছে। এ ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকে নতুন ছবি ও ভিডিও আপলোড করাও কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন ফেসবুক। সম্প্রতি একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বাংলাদেশ প্রতিদিন অফিসে ফোন করে জানান, কিছুদিন আগে তার পুরান ফেসবুক আইডি চুরি হয়। আইডিটি ব্যবহার করে তার পাসওয়ার্ড বদলিয়ে স্থায়ীভাবে তা ব্যবহার করতে থাকে এক হ্যাকার। সেই হ্যাকার তার পরিচিত বন্ধুদের কাছে আজেবাজে ছবি যেমন_ বিভিন্ন পর্নো ছবি ও ভিডিও পাঠাতে শুরু করে। এমনকি তার বন্ধুদের বিশেষ করে মেয়েবন্ধুদের আপত্তিজনক প্রস্তাবও পাঠায়। এ অবস্থায় ওই ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীকে তার বন্ধুরা বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিতে থাকেন। এমনকি কয়েকজন ফোন দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রেসিডেন্ট মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে ৯০ ভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী নতুন। তারা নিজেদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায় জানেন না। এমনকি অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে সঠিক পাসওয়ার্ডও ব্যবহার করছেন না। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান না। দেশে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আইসিটি-২০০৯ আইনটি থাকলেও এ আইনে অভিযোগ করার জায়গা নেই। তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে সরকারের কাছে অবিলম্বে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। দেশের আইটি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন_ ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফেসবুকে না রাখাই ভালো।


0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন