মেজর জিয়া, ইশরাক আহমেদ
সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে কালের কণ্ঠের তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন সাবেক এবং একজন কর্মরত অবস্থায় পলাতক সেনা কর্মকর্তা। অন্য একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। এ চারজনের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সেনা সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, ধর্মীয়ভাবে কট্টরপন্থী এসব সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার কাছে তাঁদের নিজ পরিবারের নিরাপত্তা এবং চাকরি ও ব্যবসায়িক স্বার্থ উপেক্ষিত।
লে. কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফ : লে. কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফ, পিএসসি, পদাতিক (বিএ নম্বর-৩১১৯) ১৯৮১ সালের ৩০ মে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী নিহত মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের ভাগ্নে এবং ওই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট নিহত কর্নেল মাহবুবের ভাই। ২০০৯ সালের ৫ মার্চ তাঁকে মেজর পদে থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনী থেকে এমএস অপশনে (বাধ্যতামূলক) অবসর দেওয়া হয়। পরে সশস্ত্র বাহিনী রিভিউ কমিটি/অফিসার্স পর্ষদের সুপারিশে বর্তমান সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত ৩৬ জন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকেও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জাকির সম্পর্কে জানা যায় তিনি ৩২ লং কোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।
পলাতক মেজর জিয়া : পলাতক মেজর জিয়ার পুরো নাম সৈয়দ মো. জিয়াউল হক। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ জিল্লুল হক। ৪১ লং কোর্সের এই সেনা কর্মকর্তার বিএ নম্বর ৫৯১৬। বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সদর থানার মোস্তফাপুর গ্রামে। ঢাকার ঠিকানা : বাড়ি ৫১২, সড়ক নম্বর ৯, বারিধারা, ডিওএইচএস।
আমাদের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি গতকাল সন্ধ্যায় মোস্তফাপুর ঘুরে এসে জানান, মেজর জিয়াদের বাড়িটি ডা. এস এ হকের বাড়ি নামে পরিচিত। সম্পর্কে এস এ হক মেজর জিয়ার বাবার চাচাতো ভাই। মেজর জিয়ার আপন তিন চাচা সপরিবারে ব্রিটেন প্রবাসী। ডা. এস এ হকের ছোট ছেলে সৈয়দ ইমরানুল হক কালের কণ্ঠকে জানান, মেজর জিয়া বিএমএতে পাসিং আউটের সময় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত হন। তিনি প্রথম বিয়ে করেন হাইকোর্টের একজন বর্তমান বিচারকের মেয়ে লিপিকে। ২০০৭ সালে লিপি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই সংসারে মেজর জিয়ার সাত বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পরই মেজর জিয়া ধর্মীয় আচার-আচরণে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেন। পরে তিনি পটুয়াখালীর এক মেয়েকে বিয়ে করেন। পরের সংসারে দুই সন্তানের বাবা হন তিনি। জানা যায়, পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকায় মেজর জিয়ার শ্বশুরবাড়িতে গতকাল দুপুরে গোয়েন্দারা খোঁজখবর নিয়েছেন। মেজর জিয়ার দ্বিতীয় শ্বশুরের নাম মো. মোখলেছুর রহমান।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশি ইশরাক আহমেদ দীর্ঘদিন থেকেই রোমিং ফোনের মাধ্যমে মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন এবং তাঁকেই সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান পরামর্শক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইশরাক আহমেদ : আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি গতকাল সন্ধ্যায় নওগাঁর বারশাইল ইউনিয়নের বালুভাড়া গ্রামে দ্বীন মঞ্জিল ঘুরে এসে জানান, এম এ রকিবের ছেলের নাম ইশরাক নয়, ইশতিয়াক। এম এ রকিব একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। ভাসানী ন্যাপ করতেন। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম নওগাঁ গার্লস স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা। ইশতিয়াকরা তিন ভাই এবং দুই বোন। গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকেন না। গ্রামের লোকজন জানায়, ইশতিয়াকের ঢাকায় ডিওএইচএসে ব্যবসা রয়েছে।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন