প্রেমিককে বিয়ে করতে সন্তান হত্যা !, Lover who is married to the child murder
অনৈতিক সম্পর্ককে বিয়ে পর্যন্ত গড়াতে পথের কাঁটা হয়েছিল আড়াই বছরের কন্যাশিশু ইশরাত রিয়া। তাই তো পরকীয়া প্রেমিককে দিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে মা। পুলিশ এমনটি দাবি করলেও শিশুটির মা রোজিনা বলেছে, খুনি সুলতান নিজেকে রক্ষা করতেই ষড়যন্ত্র করছে। সে মিথ্যা কথা বলছে। গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিঁড়িঘর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু রিয়ার লাশ। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছিল। এর এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশ শনিবার রাতে লালবাগ এলাকা থেকে রিয়ার মা রোজিনা ও তার কথিত প্রেমিক সুলতান মাহমুদকে (২৬) নারায়ণগঞ্জের পাগলা থেকে গ্রেফতার করে। গতকাল ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, রিয়াকে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে দেয়ালে ঠেসে ধরে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রুমালটি উদ্ধার হয়েছে। সুলতান সাংবাদিকদের কাছে বলে, রোজিনার সঙ্গে তার দেড় বছর ধরে সম্পর্ক। রোজিনা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু সুলতান বাচ্চাসহ রোজিনাকে বিয়ে করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। সুলতানের দাবি, রোজিনা ও সে বাচ্চাটিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। রোজিনাই তাকে দেখিয়ে দেয়, বাচ্চাকে কোথায় রেখে যাবে এবং মারার পর কোথায় রাখতে হবে। ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বাচ্চাটি নিখোঁজ হওয়ার আগে এবং পরে রোজিনা ও সুলতানের মধ্যে অনেকবার ফোনে কথা হয়েছে। এরই সূত্র ধরে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার আগের দিন ঘাতক দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের স্থান চিহ্নিত করে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ জানুয়ারি মা রিয়াকে হাসপাতালের নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসে। পরে মায়ের পরকীয়া প্রেমিক রিয়াকে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার করে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে চালানোর জন্য হাসপাতালকে বেছে নেওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়া সুলতান মাহমুদ জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোজিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কয়েক দিন মোবাইলে কথা বলার পরই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের দুই মাসের মধ্যে তারা শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রোজিনা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। সুলতান মেয়ে রিয়াসহ বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় রোজিনা তার মেয়েকে মেরে ফেলার পরামর্শ দেয়। সুলতান আরও জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ জানুয়ারি তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে রিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রোজিনাই তাকে হত্যাকাণ্ডের স্থান ও কৌশল শিখিয়ে দেয়। ৩ জানুয়ারি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখানোর কথা বলে গাইনি বিভাগে ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশ করে রোজিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিয়াকে বাইরের একটি চেয়ারে বসিয়ে রেখে যায় রোজিনা। বাবা পরিচয়ে সে সেখান থেকে রিয়াকে নিয়ে যায়। নিউক্লিয়ার বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় রিয়াকে দেয়ালে সঙ্গে ঠেসে মুখে রুমাল দিয়ে চেপে ধরে। ১০-১২ মিনিট এভাবে রাখার পর রিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত হলে সেখানে রেখে পালিয়ে যায় সুলতান।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন