প্রতিবেশী ভারতের একতরফা পদক্ষেপের কারণে অদূর ভবিষ্যতে চতুর্মুখী পানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত একদিকে আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক আইন মানছে না, অন্যদিকে রক্ষা করছে না বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশের বারবার তাগিদ সত্ত্বেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর প্রলম্বিত করছে। কাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। এর বাইরে আন্তঃনদী সংযোগ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এ সবের ফলে বাংলাদেশের উজানে ভারত থেকে আসা আন্তর্জাতিক নদীগুলোর গতিপথে পরিবর্তন ঘটবে। বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের সার্বিক পরিবেশ ও কৃষির উপর। পরিবর্তন ঘটবে জলবায়ুর। তখন বাংলাদেশ বহুমুখী পানি সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন দেশের পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা করবে দুই দেশ। ফলে ভারত চাইলে একতরফাভাবে যৌথ নদীর ওপর কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আবার যে কোনো ছোট প্রকল্পের আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতির বাইরে টিপাইমুখে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই চুক্তি করেছে ভারত। নেপাল ও ভুটানের সপ্তকোষি ও সাংকোশী অববাহিকায় বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি করে ফেলেছে তিনটি দেশ। আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না সহসাই। গঙ্গা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এমন সময়ে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট থেকে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারতের ১৬টি নদী নিজেদের মধ্যে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পের আওতায় নেপালের কোশি ও মহাকালী নদীর উৎসস্থলের কাছে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আটকে দেওয়া হবে। সেখান থেকে পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে গঙ্গায় এসে পড়বে। গঙ্গার পানি আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের কাছ দিয়ে দক্ষিণ ভারতের দিকে যাবে। দক্ষিণ ভারতের শুকনো অঞ্চলে পানি নেওয়া হবে। ফলে বন্ধ হয়ে যাবে স্বাভাবিক প্রবাহের আওতায় বাংলাদেশে পানির প্রবেশ।
পররাষ্ট্র ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনিপুরে বরাক ও টুভাই নদীর মিলনস্থলে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। মনিপুর রাজ্যের চোরাচাঁদপুর জেলার টিপাইমুখে ১৬৩ মিটার উঁচু ড্যামটি ৫ হাজার ১৬৩ দশমিক ৮৩ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মূলত বরাক উপত্যকায় পানি ধারণ করে ২ হাজার ৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ। পরে এই ড্যামের মাধ্যমে সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এটি নির্মাণ হলে মহা বিপর্যয়ে পড়বে বাংলাদেশের আটটি জেলা। পাঁচ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাও বিপন্ন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব ড. আকবর আলি খান জানান, বাংলাদেশের উজান থেকে আসা পানির মোট ৭-৮ ভাগ আসে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় বরাক নদী থেকে। মৎস্য সম্পদ ও চাষাবাদের জন্য বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষ বরাক নদীর পানি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনার প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার ২৭৫ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশে কতখানি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তা সমীক্ষা করে বের করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আকবর আলি খান। তিনি বলেন, কতগুলো খারাপ প্রভাব এখনই বাংলাদেশে পড়বে এবং কতগুলো প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বা স্বল্পমেয়াদে পড়বে তার কোনো সমীক্ষা নেই। তবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এর ভাটিতে যে পানি আসে সে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এর ফলে ভাটি অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হবে। দ্বিতীয়ত, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাটির নদীগুলোর ভাঙন বেড়ে যাবে। ফলে ভাটিতে পলিমাটি গিয়ে শাখা নদী ও উপনদীগুলোকে ভরাট করে ফেলবে। মাছ তার আবাস হারাবে এবং নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের নয়াদিলি্ল সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বার্তা দিয়েছেন তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে সময় লাগবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আপত্তি বাংলাদেশকে দেওয়া পানির হিস্যা নিয়ে। বাংলাদেশকে সমবণ্টন হিসেবে অর্ধেক পানি দেওয়ার বিরোধী তিনি। সবমিলিয়ে সবপক্ষের রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তিস্তা চুক্তি সম্ভব নয়।
এদিকে, সোমবার ভারতের সুপ্রিমকোর্ট আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আদেশ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটিও গঠন করেছে। জানা যায়, ২০০২ সালে দেশে খরার কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি আন্তঃনদী-সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। সে সময় গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে প্রকল্পটি দুই ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়। উপদ্বীপ অঞ্চলের অংশের আওতায় মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর মাঝে ১৬টি সংযোগের মাধ্যমে 'দক্ষিণাঞ্চলীয় পানি গ্রিড' গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। এ পরিকল্পনার আওতায় মহানন্দা ও গোদাবরীর বাড়তি পানি পেন্নার, কৃষা, ভাগাই ও কাবেরীতে প্রবাহিত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত কেরালা ও কর্ণাটকের নদীগুলোর ধারা পূর্ব দিকে পরিবর্তনের পাশাপাশি পশ্চিম উপকূলসংলগ্ন ছোট নদীগুলো এবং মুম্বাইয়ের উত্তর ও তাপির দক্ষিণে প্রবাহিত নদীগুলোর সঙ্গে যমুনার দক্ষিণের প্রবাহিত নদীর ধারার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। অপর অংশের প্রকল্পে জলাধার নির্মাণের লক্ষ্যে ভারত, নেপাল ও ভুটানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পাশে বেশ কিছু বাঁধ নির্মাণ করা হবে। গঙ্গার পূর্ব দিকে প্রবাহিত বাড়তি পানির গতিপথ পশ্চিমে সরিয়ে দিতে খাল নির্মিত হবে। ব্রহ্মপুত্র ও এর সঙ্গে সংযুক্ত অন্য নদীর সঙ্গে গঙ্গা এবং গঙ্গার সঙ্গে মহানন্দার সংযোগ করা হবে। প্রকল্পের এ অংশ প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটারে সেচের পাশাপাশি প্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পাশাপাশি এটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা জোরদার করবে। এ প্রসঙ্গে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, আন্তঃসংযোগ নদী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের ৭০ শতাংশ পানি কমে আসবে। কারণ শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ পানির উৎস। এ নদী দিয়ে পানি আসা কমে গেলে বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশ গুরুতর বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা করবে দুই দেশ। ফলে ভারত চাইলে একতরফাভাবে যৌথ নদীর ওপর কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আবার যে কোনো ছোট প্রকল্পের আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতির বাইরে টিপাইমুখে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই চুক্তি করেছে ভারত। নেপাল ও ভুটানের সপ্তকোষি ও সাংকোশী অববাহিকায় বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি করে ফেলেছে তিনটি দেশ। আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না সহসাই। গঙ্গা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এমন সময়ে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট থেকে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারতের ১৬টি নদী নিজেদের মধ্যে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পের আওতায় নেপালের কোশি ও মহাকালী নদীর উৎসস্থলের কাছে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আটকে দেওয়া হবে। সেখান থেকে পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে গঙ্গায় এসে পড়বে। গঙ্গার পানি আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের কাছ দিয়ে দক্ষিণ ভারতের দিকে যাবে। দক্ষিণ ভারতের শুকনো অঞ্চলে পানি নেওয়া হবে। ফলে বন্ধ হয়ে যাবে স্বাভাবিক প্রবাহের আওতায় বাংলাদেশে পানির প্রবেশ।
পররাষ্ট্র ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনিপুরে বরাক ও টুভাই নদীর মিলনস্থলে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। মনিপুর রাজ্যের চোরাচাঁদপুর জেলার টিপাইমুখে ১৬৩ মিটার উঁচু ড্যামটি ৫ হাজার ১৬৩ দশমিক ৮৩ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মূলত বরাক উপত্যকায় পানি ধারণ করে ২ হাজার ৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ। পরে এই ড্যামের মাধ্যমে সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এটি নির্মাণ হলে মহা বিপর্যয়ে পড়বে বাংলাদেশের আটটি জেলা। পাঁচ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাও বিপন্ন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব ড. আকবর আলি খান জানান, বাংলাদেশের উজান থেকে আসা পানির মোট ৭-৮ ভাগ আসে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় বরাক নদী থেকে। মৎস্য সম্পদ ও চাষাবাদের জন্য বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষ বরাক নদীর পানি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনার প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার ২৭৫ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশে কতখানি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তা সমীক্ষা করে বের করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আকবর আলি খান। তিনি বলেন, কতগুলো খারাপ প্রভাব এখনই বাংলাদেশে পড়বে এবং কতগুলো প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বা স্বল্পমেয়াদে পড়বে তার কোনো সমীক্ষা নেই। তবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এর ভাটিতে যে পানি আসে সে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এর ফলে ভাটি অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হবে। দ্বিতীয়ত, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাটির নদীগুলোর ভাঙন বেড়ে যাবে। ফলে ভাটিতে পলিমাটি গিয়ে শাখা নদী ও উপনদীগুলোকে ভরাট করে ফেলবে। মাছ তার আবাস হারাবে এবং নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের নয়াদিলি্ল সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বার্তা দিয়েছেন তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে সময় লাগবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আপত্তি বাংলাদেশকে দেওয়া পানির হিস্যা নিয়ে। বাংলাদেশকে সমবণ্টন হিসেবে অর্ধেক পানি দেওয়ার বিরোধী তিনি। সবমিলিয়ে সবপক্ষের রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তিস্তা চুক্তি সম্ভব নয়।
এদিকে, সোমবার ভারতের সুপ্রিমকোর্ট আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আদেশ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটিও গঠন করেছে। জানা যায়, ২০০২ সালে দেশে খরার কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি আন্তঃনদী-সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। সে সময় গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে প্রকল্পটি দুই ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়। উপদ্বীপ অঞ্চলের অংশের আওতায় মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর মাঝে ১৬টি সংযোগের মাধ্যমে 'দক্ষিণাঞ্চলীয় পানি গ্রিড' গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। এ পরিকল্পনার আওতায় মহানন্দা ও গোদাবরীর বাড়তি পানি পেন্নার, কৃষা, ভাগাই ও কাবেরীতে প্রবাহিত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত কেরালা ও কর্ণাটকের নদীগুলোর ধারা পূর্ব দিকে পরিবর্তনের পাশাপাশি পশ্চিম উপকূলসংলগ্ন ছোট নদীগুলো এবং মুম্বাইয়ের উত্তর ও তাপির দক্ষিণে প্রবাহিত নদীগুলোর সঙ্গে যমুনার দক্ষিণের প্রবাহিত নদীর ধারার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। অপর অংশের প্রকল্পে জলাধার নির্মাণের লক্ষ্যে ভারত, নেপাল ও ভুটানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পাশে বেশ কিছু বাঁধ নির্মাণ করা হবে। গঙ্গার পূর্ব দিকে প্রবাহিত বাড়তি পানির গতিপথ পশ্চিমে সরিয়ে দিতে খাল নির্মিত হবে। ব্রহ্মপুত্র ও এর সঙ্গে সংযুক্ত অন্য নদীর সঙ্গে গঙ্গা এবং গঙ্গার সঙ্গে মহানন্দার সংযোগ করা হবে। প্রকল্পের এ অংশ প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটারে সেচের পাশাপাশি প্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পাশাপাশি এটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা জোরদার করবে। এ প্রসঙ্গে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, আন্তঃসংযোগ নদী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের ৭০ শতাংশ পানি কমে আসবে। কারণ শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ পানির উৎস। এ নদী দিয়ে পানি আসা কমে গেলে বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশ গুরুতর বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।




0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন