শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১২

বাংলাদেশ ভারতসহ পাঁচ দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনী


বাংলাদেশ ভারতসহ পাঁচ দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনী


আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশে বর্তমানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী অবস্থান করছে। অন্য দেশগুলো হলো ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (প্যাসিফিক কমান্ড) দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার অ্যাডমিরাল রবার্ট উইলার্ড গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির কাছে শুনানিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিশেষ এ বাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার এ পাঁচটি দেশে অবস্থান করে সন্ত্রাসরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়াও জলদস্যুতা, মাদক পাচার ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন কাজে দেশগুলোকে সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ইউএস স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্স, এএফপি, পিটিআই ও বিবিসির। কমান্ডার উইলার্ডের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন কমান্ডার বলেছেন সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ যোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বেশ ভালো অবদান রাখছে। এতে তাদের সক্ষমতাও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজ দেশের মানুষের পাশে থাকছে। কংগ্রেস কমিটি সেনা কমান্ডারের কাছে লস্কর-ই-তৈয়বা সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে উইলার্ড কমিটিকে জানান, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এ অঞ্চলের জন্য খুবই বড় হুমকি। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলাসহ ভারতে আরও কয়েকটি হামলার জন্য লস্কর-ই-তৈয়বাকে দায়ী করা হয়। আফগানিস্তানেও বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছে তারা। এ ছাড়া তাদের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার অন্যান্য অনেক স্থানও। এই জঙ্গিগোষ্ঠী কেবল নিজেরাই সংঘবদ্ধ নয়, এদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বেশ ভালো। আল-কায়েদা এবং অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের মোকাবিলায় মার্কিন সেনারা দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে। এই সহযোগিতা বিশেষত সামুদ্রিক এলাকায়। তবে আমরা ওই সব দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায়ও সাহায্য করব। মার্কিন সেনা কমান্ডার কংগ্রেস কমিটির কাছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও আমেরিকায় জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রোপকূলের গুরুত্ব এবং এর কৌশলগত অবস্থানও তুলে ধরেন।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন