সাফল্যের আরেক নাম- কাজল
১৯৯২ সালে মুক্তি পেয়েছিলো কাজল অভিনীত প্রথম ছবি ‘বেখুদি’। বাণিজ্যিক সফলতা পায়নি ছবিটি। পরের বছরই শাহরুখ খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি বাজিমাত করলেন ‘বাজিগর’ ছবির মাধ্যমে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কাজলকে। একে একে মুক্তি পেয়েছে ‘করণ-অর্জুন, দিল ওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে, পেয়ার তো হোনা হি থা, কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গম’- এর মতো বক্স অফিস মাতানো হিট সব ছবি। ১৯৯৭ সালে ‘গুপ্ত’ ছবিতে খল নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন প্রতিভাময়ী কাজল। এই ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কারও পান। উল্লেখ্য, বলিউডি অভিনেত্রীদের মধ্যে কাজলই প্রথম খলনায়িকা হিসেবে পুরষ্কার জেতেন। ১৯৯৭ সালেই কমেডি ছবি ‘ইশক’-এর মাধ্যমে তিনি বৈচিত্র্য আনেন অভিনয় ক্যারিয়ারে।
ভারতের মতো দেশে যেখানে অভিনেত্রীদের সম্মানজনকভাবে টিকে থাকাই কঠিন, সেখানে কাজল সত্যিই ব্যতিক্রম। সারা পৃথিবীর ভক্তদের মনে তার জন্য রয়েছে এক সম্মানজনক স্থান। ব্যক্তিগত জীবনে কোনো রকম ‘মিডিয়া গসিপ’কে কখনোই প্রশ্রয় দেননি কাজল। পারিবারিক আবহের কারণেই তিনি জানতেন এসব কীভাবে সামলাতে হয়।
কাজল জুটিবদ্ধ হয়ে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন চমৎকার এবং সাড়াজাগানো বেশ কয়েকটি রোমান্টিক ছবি। শাহরুখ খানের সঙ্গে তার রসায়নটা ছিলো অসাধারণ। এই জুটির সব কটি ছবিই সুপার হিট। সেই ‘বাজিগর’ থেকে যাত্রা শুরু শাহরুখ-কাজল জুটির। এরপর একে একে মুক্তি পায় ‘করণ-অর্জুন’, ‘দিল ওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গম’ এবং ‘মাই নেম ইজ খান’- এর মতো অসাধারণ সব ছবি। এই জুটির ‘দিল ওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবিটি ভারতের সিনেমা হলগুলোতে টানা ছয়শো সপ্তাহ ধরে চালু ছিলো; যা বলিউডে এখনো রেকর্ড হয়েই আছে। এই ছবিটির ঝুলিতে রয়েছে এরকম আরো অনেক রেকর্ড। শাহরুখ-কাজল জুটিকে এখনও বলিউডের ‘হটেস্ট কাপল’ হিসেবেই ধরা হয়। অথচ কখনোই কোনো রকম গসিপ ছড়ায়নি এই জুটিকে ঘিরে। এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে কাজলের অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে। শাহরুখের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া রাই বা হালের তারকা প্রিয়াংকা চোপড়াকে নিয়ে গসিপ ছড়ালেও, কাজলের কাছে গসিপ কখনোই পাত্তা পায়নি।
বলিউডের আরেকটি সফল জুটি কাজল-অজয় দেবগন জুটি। এই জুটির সুপার হিট ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পেয়ার তো হোনা হি থা, ইশক, রাজু চাচা, দিল কেয়া করে, হালচাল, গুন্ডা রাজ’ এবং ‘ইউ মি অউর হাম’। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই ভালোলাগা তৈরি হয় এই জুটির মধ্যে। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা এবং অবশেষে ১৯৯৯ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি দুই সন্তান নিয়ে সফল একজন মা হিসেবেও সংসারও করছেন কাজল।
১৯৯৪ সালে ‘উধার কি জিন্দেগী’ ছবিটি বাণিজ্যিক সফলতা না পেলেও, বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয়ের জন্য কাজল পেয়ে যান সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। এর বাইরে অনিল কাপুরের সঙ্গে ‘হাম আপকে দিলমে রেহতা হ্যায়’ ছিলো আরেকটি বক্স অফিস হিট ছবি। অনিল কাপুরের মতো সিনিয়র একজন অভিনেতার সঙ্গে সাবলীল অভিনয় সবার কাছেই কাজলকে প্রশংসনীয় করে তোলে। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে ‘দুশমন’ ছবিতে কাজলের দ্বৈত অভিনয়ে চমৎকৃত হন দর্শক। একই সঙ্গে সহজ সরল আবার উল্টোদিকে প্রতিহিংসাপরায়ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি অসাধারণ এক বৈচিত্র্য তুলে আনেন এই ছবির মাধ্যমে। একই বছরে সালমান খানের সঙ্গে ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’র মাধ্যমে আরেকটি সুপার হিট ছবি উপহার দেন তিনি।
সন্তানদের ভালোভাবে লালন পালনের উদ্দেশ্যে বলিউডের এই রাণী ২০০১ সাল থেকে টানা ৫ বছরের জন্য বিরতি টানেন অভিনয়ে। এরপর ২০০৬ সালে আমির খানের সঙ্গে জুটি হয়ে ফিরে আসেন ‘ফানা’ ছবির মাধ্যমে। এখানেও সফল কাজল। পেয়ে যান সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার। এখন নিয়মিতই অভিনয় করছেন তিনি। ২০১০ সালে ৩টি ছবিতে দেখা গেছে কাজলকে। ছবিগুলো হলো ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘উই আর ফ্যামিলি’ এবং ‘টুনপুর কা সুপার হিরো’।



0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন