রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১১

পূর্ণিমার আলো হয়ে থাকতে চাই



পূর্ণিমার আলো হয়ে থাকতে চাই
বড় ও ছোট উভয় পর্দায় সমান জনপ্রিয় ও দক্ষ অভিনেত্রী পূর্ণিমা। তার কথায়, মানের কোনো বিকল্প নেই। তাই সংখ্যা নয়, মানই জনপ্রিয়তার মাপকাঠি। এ বিষয়ে আজ তার সাক্ষাৎকার-


আগের মতো বড় পর্দায় দর্শক আপনাকে পাচ্ছে না, তবে তারা কি পূর্ণিমার আলো থেকে বঞ্চিত হবে?



দর্শকদের বঞ্চিত করার অধিকার বা দুঃসাহস কোনোটিই আমার নেই। তাদের কারণেই তো আজ আমি পূর্ণিমা। দূর আকাশ থেকে রুপালি আলো ছড়াতে পারছি। আসলে চাঁদের বুকেও অমাবস্যা-পূর্ণিমা আছে। এখন পূর্ণিমা না হয় কিছুটা অমাবস্যার সঙ্গে মিতালী করেছে।






অমাবস্যার সঙ্গে মিতালীর বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?


হ্যাঁ, কারণ তো আছেই। অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই বেছে বেছে মানসম্মত ভালো কাজ করছি বলে স্বচ্ছ, সুন্দর এবং বিশুদ্ধ আলো ছড়িয়ে যেতে পারছি। আগামীতেও চকচকে রুপালি জোছনায় আমার প্রিয় দর্শক-ভক্তদের স্নাত করতে চাই। তাই ভালো কাজের অপেক্ষায় আছি।






জনপ্রিয়তার মাপকাঠি সংখ্যা নাকি মান?


অবশ্যই মান। না বুঝে না শুনে অনেকগুলো যাচ্ছেতাই কাজ করলে জনপ্রিয়তা বাড়বে নাকি কমবে? সংখ্যায় কম হলেও বেছে বেছে ভালো কাজ করা কি ভালো নয়। আমি এই ফর্মুলায় বিশ্বাসী। ভালো কাজ নিয়ে সবসময় দর্শকের সামনে হাজির হতে চাই। প্রতিদিন প্রচুর প্রস্তাব নিয়ে নির্মাতারা আসেন। চিত্রনাট্য পছন্দ না হলে তাদের সোজা বলে দেই, আমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না। কারণ আমি আমার পরিচ্ছন্ন ইমেজ অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। দর্শকের হৃদয়ে পূর্ণিমার আলো হয়ে থাকতে চাই।










এ মুহূর্তে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?


এইতো ১ অক্টোবর থেকে এফ আই মানিকের 'জজ ব্যারিস্টার-পুলিশ কমিশনার' চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করব। এছাড়া ঈদুল আজহার জন্য দুটি টিভি নাটকে কাজ করব। এর মধ্যে এস এ হক অলিকের নাটকের কাজটি শীঘ্রই শুরু হবে।






স্বাচ্ছন্দ্য বড় নাকি ছোট পর্দায়?


দুই মাধ্যমই সমান। একজন শিল্পীর কাজ ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো এবং দর্শকদের নির্মল আনন্দ দিতে কাজ করে যাওয়া। তাই বড় ও ছোট দুই পর্দার দর্শকের জন্যই কাজ করতে ভালো লাগে। তবে হ্যাঁ, যেহেতু বড় পর্দা দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেছি, তাই এ মাধ্যমটির প্রতি একটু বেশি ভালোবাসা তো আছেই।






প্রিয় দর্শকদের জন্য বলার কিছু আছে?


তাদের বলতে চাই, আমরা শিল্পীরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এত কষ্ট করে তাদের জন্য কাজ করে যাই অথচ তারা এখন আর আগের মতো প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে আসে না। তাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা প্রেক্ষাগৃহে আসুন, দেশীয় চলচ্চিত্রকে রক্ষা করুন। নিজ দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি লালন করে আমরা বাঁচতে চাই।






দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসছে না কেন?


এর প্রধান কারণ পরিবেশের অভাব। তাদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ ও চলচ্চিত্রের মান উন্নত করতে হবে। আমার বিশ্বাস, ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে দর্শক অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে আসবে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ মনের মাঝে তুমি, হৃদয়ের কথা, আকাশছোঁয়া ভালোবাসা, মোল্লা বাড়ীর বউ কিংবা মনপুরা। তাই দেশীয় চলচ্চিত্রের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।






এ দুইয়ের পাশাপাশি শিল্পী সমস্যাও আছে?


অবশ্যই আছে। একই শিল্পীর চলচ্চিত্র দর্শক আর কত দেখবে। তারাও তো বিরক্তিতে ভুগছে। তাই প্রেক্ষাগৃহ থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহে গেলে দেখা যায় একই শিল্পীর চারটি পোস্টার পাশাপাশি লাগানো। এ সপ্তাহে যার চলচ্চিত্র চলছে, আগামী সপ্তাহেও তারই চলচ্চিত্র চলবে, ফলে দর্শক নতুনত্ব পাচ্ছে না। এতে দর্শক বাংলা চলচ্চিত্র ও প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।






এর সমাধান কি?


নির্মাতাদের নতুন শিল্পী নিয়ে কাজ করার ঝুঁকি নিতে হবে। নতুন নতুন শিল্পী তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রচার-প্রসার বাড়াতে হবে। প্রযোজক, পরিচালক, বুকিং এজেন্টদের একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।






অভিনয় ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে নতুন কোনো ভাবনা?


ভাবনা তো একটিই_ সবখানে পূর্ণিমার ঝলমলে রুপালি আলো ছড়িয়ে যাওয়া।


* তামিম & শাইদুর রাহমান


 

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন